Post Image
svgfahmesvgJuly 26, 2022svgFiction

প্রাক্তন: পর্ব ১

**reader discretion is advised**

বীভৎস সব মৃতদেহ ডিউটির কারণে কম দেখা হয়নি এ জীবনে, তবুও এই লাশটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে এক রকম গা গুলিয়ে আসতে লাগল শরীফের। দম আটকে নাকি রক্তক্ষরণে মৃত্যু সেটা পরে নিশ্চিত হওয়া যাবে- পোস্টমর্টেমের পরে অবশ্যই। কিন্তু ইন্টেলিজেন্স অফিসার শরীফের অভিজ্ঞতা বলছে এ দুটোর মধ্যে যেকোন একটা। কিংবা দুটোই। বেশিক্ষণ তাকানোর প্রয়োজন পড়ে নাই ভাগ্য ভাল। লাশ ইন্সপেকশনের পর দ্রুতই খুনীর ফেলে যাওয়া কোন আলামত সন্ধানে ব্যতিব্যস্ত হতে গেল শরীফ। কিন্তু বসের ফোন চলে এসেছে এরমধ্যে।

“স্যার, সালাম স্যার।”

“ওয়ালাইকুম। কী শরীফ সাহেব, এক্কেবারে আর্টিস্টিক মার্ডার কেস পেয়েছ দেখছি! জিহ্বা, আর হাত দুটোই কেটে ফেলেছে দেখলাম!”

এখনকার দিনে সব ক্রাইম সীন ইনভেস্টিগেশন লাইভ ক্যামেরায় রেকর্ড হয়। তবে বস অন্য সব কাজ ফেলে শরীফের এই ইনভেস্টিগেশন দেখছেন ব্যাপারটা খানিক আজবই ঠেকল, কিন্তু প্রকাশ করল না সেটা শরীফ। নতুন পোস্টিং হয়ে এসেছেন এই বস, মাইক্রোম্যানেজ করার বাতিক থাকতেই পারে, কে জানে! এখতিয়ার তো আছে, তবে অকারণে নাক গলাবে না বেশি এটাই আশা করতে পারে সে।

“জ্বি স্যার, জিহ্বা আর হাত ধারালো কিছু দিয়ে কেটেছে। কেটে সেগুলো গিলতে ফোর্স করেছে ভিকটিমকে। আমার ধারণা দম আটকে মারা গেছে, কিংবা রক্তক্ষরণে।”

“হুম, নাইস অবজার্ভেশন। পোস্টমর্টেম শেষে বোধহন নিশ্চিত হওয়া যাবে, তাইনা? আচ্ছা, কোন আলামত পেলে?”

“না স্যার, এখন খুঁজবো।”

“ওকে, বেস্ট অব লাক, আই উইল গেট আউট অব ইয়োর হেয়ার দেন।”

“জ্বি স্যার, গুডবাই স্যার।”

খুঁজে খুব একটা লাভ হলো না যদিও। খুনী সম্ভবত খুবই প্রফেশনাল ছিল, কারণ ছাপ কিংবা সিসিটিভি ফুটেজ কিছুই নাই। আলামত বলতে কেবল একটা জিনিস পাওয়া গেছে, লাশের কাছেই পড়ে ছিল। একটা অনেক পুরনো মিউজিক প্লেয়ার। এধরনের জিনিস চলে না বেশ অনেক বছর হয়ে গেল। অন করে প্লে বাটন চাপ দিল শরীফ।

“সেদিন ভোরে, বুকের গভীরে-

শুনেছি জমে থাকা নীল বেদনারা ডাকে,

এই শহরে ইটের পাহাড়ে-

ছিলো না কেউ যে দেওয়ার প্রেরণা…

যন্ত্রে বাঁধা মন, ছিলো ক্লান্ত অসহায়-

অর্থে কেনা সুখ, ম্রিয়মান দুঃখের ছায়ায়…”

ওয়ারফেজের ক্ল্যাসিক গান পূর্ণতা। দু দশক ধরে ওয়ারফেজের সর্বাধিক জনপ্রিয় গান হিসেবে আছে সম্ভবত। আর কোন গান নেই প্লেয়ারটিতে। পুরো বাসা আধুনিক সব জিনিসপাতি দিয়ে ভর্তি। এর মাঝে এই একটা গান ভর্তি এক যুগ আগের মিউজিক প্লেয়ার ঠিক যাচ্ছে না। আর প্লেয়ারে কোন হাতের ছাপও নেই। তারমানে পুরো বাসায় যে ছাপ সরিয়েছে, সেই এটা থেকে সরিয়েছে। এই একটা ক্লু নিয়ে অফিসের দিকে রওনা দিল শরীফ। লাশের ছবিটা মাথা থেকে সরিয়ে ফেলতে গেল, মাথায় উড়ে এসে জুটল গানের চিরপরিচিত লিরিক্স-

“আর নয় সময় উদ্দেশ্যহীন মিছিলে

তুমি সেই পূর্ণতা আমার অনুভবে

আর নয় আঁধার, তুমি স্বপ্নে ডেকে নিলে

ভরে মন অন্তহীন রঙিন এক উৎসবে”

আসার পথে চীজ কিনে নিয়ে যেতে হবে বাসায়। আজ পিজ্জা দিবস। সপ্তাহের এক এক দিন এক এক রকমের ডিশের রুটিন চলে শরীফের বাসায়। আর আজকের পিজ্জাটা বানানোর ভার শরীফের। মাসে দুদিন শরীফ বানায়, আর দু দিন শান্তা- তার স্ত্রী। সংসারের কাজ মিলেমিশেই করে দুজন। সুপারশপ থেকে বের হয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল শরীফ। ফ্যামিলি টাইম আজ যা নেবার নিয়ে নিতে হবে, এ কেসটা বেশ ভোগাবে বলে মনে হচ্ছে।

দুদিন পর বস ডাকলেন অফিসে।

“কী শরীফ সাহেব? কেস সলভড নাকি?”

“নাহ স্যার, হাবুডুবু খাচ্ছি।”

“প্রেমে? এই বয়সে?”

“নাহ স্যার, বয়েস থাকলেও সম্ভব না। বউ বাচ্চা আছে হাহা।”

“হু, তোমার যেরকম নামডাক- আগে আগে বিয়ে করে ভালোই করেছো। তোমাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি চলত নাহলে এখনও।”

“সে এখনও একেবারে চলে না সে ঠিক না স্যার। হাহা। স্যার, একটু ক্রিটিক্যাল মনে হচ্ছে কেসটা। ভিকটিম এর ধন সম্পদ ভালোই ছিল। কিন্তু সে জন্যে খুন হয়নাই নিশ্চিত। কারণ কোন কিছু নিয়েছে বলে মনে হয়না। ব্যাংক একাউন্টও ঠিকঠাক।”

“কোন শত্রু ছিল না?”

“সেটাই খুঁজছি স্যার। খুনটা দেখে মনে হচ্ছে প্রচণ্ড ক্ষোভ থেকে হত্যা।”

“সে তো ঠিক আছে। কিন্তু হাত আর জিহ্বা?”

“সিম্বলিক। খুনী কিছু একটা বলতে চেয়েছিল বোধহয়।”

“র‍্যান্ডম ও তো হতে পারে।”

“মনে হয় না। খুবই আনলাইকলি না?”

“হু। যদি না সে এইভাবে খুন করে অভ্যস্ত হয়ে থাকে।”

“কিন্তু স্যার, কাজ দেখে তো মনে হল কোন প্রফেশনালের কাজ, কোথাও কোন ছাপ পেলাম না।”

“সেটা জানি, দেখো তাহলে মোটিভ খুঁজে কিছু বের করতে পারো কিনা-”

ফোন বেজে উঠল শরীফের। বস ইশারা করলেন রিসিভ করতে।

কোন কথা না বলে চুপচাপ শুনল কিছুক্ষণ শরীফ।

“ওকে আমি আসছি”, বলে রেখে দিল একটু পর।

“স্যার, আরেকটা খুন হয়েছে। শহরের অন্য মাথায়। কিন্তু সিমিলার প্যাটার্ন। এবারের জনকে একগাদা কাগজ গিলিয়ে মেরেছে।” বলতে বলতেই কপালে ভাঁজ পড়ল শরীফের।

চোয়াল ঝুলে পড়ল বসের। “বলো কী?”

“জ্বি স্যার। গতকালই আবিষ্কার হয়েছে লাশ। সিমিলার কেস এখানে চলছে জেনে নক করল আমাকে।”

“ঠিক আছে, দেখে আসো তাহলে।”

“জ্বি স্যার।”

দরজা পর্যন্ত গিয়ে পেছনে তাকাল শরীফ।

“স্যার, লাশের সামনে এবারও আরেকটা মিউজিক প্লেয়ার পাওয়া গিয়েছে।”

“বলো কী?”

“জ্বি স্যার, একটা গান এবারও। Lost On You বাই LP”

“ইউ মীন তোমার ফোনের রিং টোনে যে গানটা শুনলাম সেটা?”

“জ্বি স্যার।”

(চলবে)

svgShould You Play Kaiser Or Not?
svg
svgপ্রাক্তন: পর্ব ২ - Lost On You

Leave a reply